অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক

জরুরি ভিত্তিতে আট কার্গো এলএনজি ও পাঁচ হাজার টন এলপিজি কেনার অনুমোদন

বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে আট কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পাঁচ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া গতকাল অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরো বেশকিছু প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটাতে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, অস্ট্রেলিয়ার গ্লোবাল ফুয়েল সাপ্লাইস পিটিই লিমিটেড, মালয়েশিয়ার প্লেন্টিটিউড এনার্জি এসডিএন বিএইচডি এবং ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে দুটি করে মোট আট কার্গো এলএনজি সরাসরি কেনার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়। পাশাপাশি এলপিজির স্থানীয় সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনের (স্পিড গ্রুপ) কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পাঁচ হাজার টন এলপিজি (প্রোপেন ৩৫-৪০ শতাংশ ও বিউটেন ৬০-৬৫ শতাংশ) আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সৌদি আরামকো সিপি দরসূচকের ওপর প্রতি টনে ৯৭ ডলার প্রিমিয়ামে এটি কেনা হবে।

সভায় সরকারি অর্থায়নে বিআরটিসির জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আওতায় ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন স্থাপন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরির কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।

সমতল ভূমিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে তৈরি ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এদিকে গতকাল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম বৈঠকে সারের আন্তর্জাতিক সরবরাহ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের জ্বালানি মূল্য সংশোধন, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ এবং মহাসড়ক সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত মোট ১৭টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে চুক্তির (জিটুজি) আওতায় তৃতীয় লটে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি ২৯ লাখ ৭ হাজার ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৮৮ দশমিক ৫৫ ডলার।

বাঁশখালীতে এসএস পাওয়ার-১ লি. কর্তৃক নির্মিত ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির মূল্য পরিশোধ বাবদ প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির মূল্য পরিশোধ বাবদ প্রায় ৩২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের ক্ষেত্রে কয়লার দর পদ্ধতি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ-সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে (প্রথম-পঞ্চম শ্রেণী) ১০৬টি লটে ৭ কোটি ৩৫ লক্ষাধিক কপি বই মুদ্রণে ৪০৪ কোটি ২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা, ইবতেদায়ি স্তরে ৩৫টি লটে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯০ টাকা। মাধ্যমিক স্তরে (ষষ্ঠ শ্রেণী) ৭০টি লটের আওতায় বই মুদ্রণে ১৮৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৬ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে (সপ্তম শ্রেণী) ৬৯টি লটের অনুকূলে ২০৬ কোটি ৫৯ লাখ ৮ হাজার ৯৩৯ টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকাল ক্রয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নের সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘‌সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের অনুমোদিত ১১টি প্যাকেজের ৫ হাজার ৯৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার সংশোধিত চুক্তিমূল্য অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকালের বৈঠকে জিটুজি পদ্ধতিতে গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানি এবং আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদে এলএনজি কেনা-সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরও